• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৬ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
নীলসাগর ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত, ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ বন্ধ বিশ্ব স্ট্রোক দিবস: স্ট্রোকের ঝুঁকি, রিহ্যাবের সংকট ও পুনর্বাসনে সচেতনতার আহ্বান তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার হত্যা মামলায় মাগুরার সাবেক ওসি ও এসআই জেলহাজতে ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে ৯ কর্মকর্তা প্রত্যাহার সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় জলঢাকা পৌরসভার সাবেক মেয়র গ্রেপ্তার রানীরবন্দরে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী ব্যবসায়ী নিহত “ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী” চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু

বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন স্বাধীনতা অর্জনের সোপান

।। অর্পণা ঘোষ বিশ্বাস ।।

বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন স্বাধীনতা অর্জনের সোপান পাকিস্তানের উদ্ভব হয়েছিল 21 Februaryদ্বিজাতিতত্বের ভিত্তিতে। খন্ডিত বাংলা অর্থাৎ পূর্ববঙ্গ। আজকের স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশ ছিল পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় প্রদেশ যার ৯৫ ভাগ অধিবাসীই বাঙালি। স্বাধীনতা লাভের পর শাসক গোষ্ঠী সদম্ভে ঘোষণা করেছিল রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু, পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিরা এই সিদ্ধান্ত কিছুতেই মেনে নিতে পারল না। শুরু হল দমন পীড়ন। নিষিদ্ধ হল বাংলা পত্র-পত্রিকা প্রকাশনা এবং সাহিত্য চর্চা। সাহিত্য চর্চা হল ঘর বন্দী। এমনকি চেষ্টা হতে লাগল আরবী হরফে বাংলা বর্ণমালা প্রবর্তণের।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র ও অধ্যাপক প্রস্তাব আনলেন বাংলাই হবে পূর্ব পাকিস্তানের প্রধান ভাষা। আর কেন্দ্রীয় সরকারের ভাষা হবে দু’টি। উর্দু আর বাংলা। রাষ্ট্রভাষা প্রশ্নটিকে কেন্দ্র করে পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক আবহাওয়া ক্রমশঃ উত্তপ্ত হতে শুরু করল ১৯৫২ সালের ২৬শে জানুয়ারি পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধান মন্ত্রী খাজা নিজাম উদ্দিন ঢাকার পল্টন ময়দানের জনসভায় ঘোষণা করলেন একমাত্র উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা। ৩০শে জানুয়ারি ধর্মঘট ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হল। ৪ঠা ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ সাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক বিশাল জনসমাবেশে ২১শে ফেব্রুয়ারি (১৯৫২) প্রদেশ ব্যাপী সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হল। ২০শে ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২টা থেকে ১৪৪ ধারা জারি হল। ২১শে ফেব্র“য়ারি অগনিত ছাত্র-ছাত্রীরা বাংলা ভাষার দাবীতে মিছিলে সামিল হলেন। গর্জে উঠল বন্দুক। ঘটনা স্থলেই শহীদ হলেন আব্দুল জব্বার ও রফিক আহমেদ। গুরুতর আহত ১৭ জন। আবুল বরকত শহীদ হলেন রাত ৮টায়। সূচনা হল গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার এক সংগ্রাম। হয়ত এই ভাষা আন্দোলনের ভিতর নিহিত ছিল পরবর্তী স্বাধীনতা আন্দোলনের বীজ। যা পরবর্তীকালে পাকিস্তান রাষ্ট্রের আদর্শগত ভিত্তিমূলকে আঘাত করেছিল। ভাষার ঐ সংগ্রাম পূর্ব পাকিস্তানের মনে তাদের জাতীয় অধিকার সম্পর্কে যে চেতনা তথা সুস্থ বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনা জাগিয়ে দিয়েছিল, তাকে দমন করার ক্ষমতা সাম্রাজ্যবাদী শাসক গোষ্ঠীর ছিল না। তখন পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালি জনগণের মনে শুধু ভাষার অধিকারই নয়, সামগ্রিক জাতীয়তা অধিকার লাভের আকাঙ্খা জেগে উঠেছিল। বস্তুতঃ ৫২ সনের ভাষার সংগ্রাম থেকে হয়েছিল পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালি জাতির স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। ৫২ সনের ২১শে ফেব্র“য়ারি বাঙালি জাতির স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যে সংগ্রাম শুরু হয়েছিল। ১৯৭১ সনের ১৬ই ডিসেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে সে সংগ্রাম সফল পরিণতিতে পৌঁছেছিল। কবি অন্নদা শঙ্কর রায়ের একটি কবিতা এই প্রসঙ্গে বিশেষ প্রাসঙ্গিকÑ

‘বাদশা হুজুর খাঞ্জা খান
নবাব হুজুর গাঞ্জা খান
দুই জনাতে যুক্তি করে, জারি করেন এই বিধান
এখন থেকে প্রজারা সব, ময়না তোতার হোক সমান
নতুন জবান শিখুক ওরা, ভুলুক ওদের নিজ জবান
মুখের মত জবাব দিল, কয়েকজনা নও জোয়ান।
মানুষ ওরা, নয়কো পাখি, বলবে নাকো নয়া জবান
গুলির মুখে দাঁড়ায়ে রুখে, অকাতরে হারায় জ্ঞান।
রক্তে রাঙা মাটির পরে, ওড়ে ওদের জয় নিশান’।

মাতৃভূমির জন্য প্রাণ দেওয়ার দৃষ্টান্ত আমাদের সকলের জানা। জানাছিল না মাতৃভাষার জন্য আক্ষরিক অর্থে জীবন দান। মাতৃভাষার মর্যাদার জন্য আত্মত্যাগ। যার তুলনা এর আগে দেখা যায়নি। ঢাকার তরুণরা সেদিক থেকে ইতিহাস দৃষ্টি করেন। ভাষা আন্দোলনের পর স্বাধীনতা অর্জনের জন্য আন্দোলন, সে এক দীর্ঘ পথ। যার দিশারী, একুশে ফেব্র“য়ারি।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ